সিলেটে বন্যায় ৪২৮ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

০৩ জুলাই, ২০২৪

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্লাবিত হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে আজ বুধবার (৩ জুলাই) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার কথা রয়েছে। তবে তৃতীয় দফা বন্যার কারণে সিলেটের ৪২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল বর্মন আচার্য জানান, বিদ্যালয়ে ৪০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি জমেছে। এড়াছাও বন্যায় বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ জানান, জেলায় ১ হাজার ৪৭৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা কবলিত হয়েছে ২৯৩টি ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার ফলে বুধবার ৩০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তিনি জানান, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে গেলেও দুইদিনের বৃষ্টিতে আবারও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যেসব বিদ্যালয় পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং এখনও বন্যা কবলিত মানুষ আছেন সেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়া মানুষ বাড়ি ফেরার পরই সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার পাঠদান শুরু হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় ৬৭৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। এরমধ্যে ৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যা কবলিত হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ২৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি জানান, বুধবার ৬ষ্ট থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ষান্মাসিক মূল্যায়ন শুরু হতে যাচ্ছে। তবে বন্যার কারণে জেলার যে সকল বিদ্যালয়ের পক্ষে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে না সে সকল বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। তবে যে বিদ্যালয়গুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে সেগুলোতে যথারীতি কার্যক্রম চলমান থাকবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় সিলেটে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।