কর্মবিরতিতে স্থবির ইবি, সেশনজটের শঙ্কা

০৩ জুলাই, ২০২৪

ইবি প্রতিনিধি: অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সার্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে সোমবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার পর্যন্ত পরীক্ষাসমূহ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকলেও সোমবার থেকে সকল ধরনের একাডেমিক ও দপ্তরিক কাজ বর্জন করেছেন তারা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছে। ফলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে অচল অবস্থা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে সেশনজটের শঙ্কা। এছাড়াও সনদ উত্তোলণসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম করতে না পেরে বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মবিরতির প্রথম তিন দিনে রুটিন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো চললেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেননি। প্রতিদিন কয়েকটি বাসে গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর দেখা মিললেও অধিকাংশ বাসই খালি অবস্থায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এছাড়া ঈদের ছুটি শেষে বাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন। এতে খোলার দিনগুলোতেও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। ক্লাসরুমসহ বিভিন্ন অফিসে নেই সেই চিরচেনা ব্যস্ততা।

এদিকে শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলেও কোনো একাডেমিক ও দপ্তরিক কাজে অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিদিন বেলা ১২টায় অনুষদ ভবনের নীচতলায় অবস্থান নিয়ে একঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। অন্যদিকে একই দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অফিস বর্জন করে প্রশাসন ভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে গিয়েও একাডেমিক শাখা ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে চলমান কর্মবিরতির ফলে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগে আগে থেকেই সেশনজট রয়েছে। কর্মবিরতির ফলে সেশনজটে থাকা বিভাগগুলো আরোও বেশি জটে পড়বে এবং অন্য বিভাগগুলোও নতুন করে জটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মবিরতির ফলে অনুষ্ঠিতব্য সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরবর্তীতে কবে সেসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তা স্পষ্ট নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের দাবি আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকা দীর্ঘায়িত হলে তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পিছিয়ে পড়তে হবে চাকরির বাজারে। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘পাঁচ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ করতে এমনিতেই সাত-আট বছর লেগে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের ফলে বিভাগগুলোর সেশনজট আরও বাড়বে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়ে কোনো আন্দোলন হওয়া উচিত না। আমরা চাই প্রশাসন এবং শিক্ষকরা দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছুক। যাতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি না হয়।’

এদিকে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমরা কখনও চাই না শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হোক। বাধ্য হয়েই আমরা এই সর্বাত্মক আন্দোলনে নেমেছি। আর এই আন্দোলন শুধু আমাদের জন্য নয়, বর্তমান শিক্ষার্থী যারা ভবিষ্যতে চাকুরীজীবনে প্রবেশ করবে তাদের জন্যও। জাতির স্বার্থে চলমান এই যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের একটু ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করতে হবে। কর্মবিরতি শেষ হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হবে কিনা সেটা সম্পূর্ণ সরকারের হাতে। তারা চাইলেই এই কর্মসূচি প্রলম্বিত করতে পারে আবার অল্প সময়ে স্কিম প্রত্যাহার করে আমাদের কর্মসূচির অবসান করতে পারে।’