০৪ জুলাই, ২০২৪
ভারতের উত্তর সিকিমে ভারী বর্ষণসহ উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও নীলফামারীর অন্য নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীর এ পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার দশমিক ১৩ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার দশমিক ৪৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬টায় ৫১ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। এ পয়েন্টে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, তিস্তা নদীর পাড়ে অবস্থিত ভারতের মেখলিগঞ্জ শহর থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত নদীর দু’পাশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। হঠাৎ এই ভারি বর্ষণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সাসহ ডুয়ার্সের বুক চিরে বয়ে যাওয়া লিস, ঘিস, নেওরার মতো খরস্রোতা নদীগুলো। এর প্রভাব বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রভাব পড়েনি দেশের তিস্তা বেষ্টিত জেলা নীলফামারীতে।
পাউবোর বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি এবং ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি প্রবাহ সাময়িকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বাড়তেছে। এটা বিপদসীমার কাছাকাছি চলে গেছে ১৩ সেন্টিমিটার ছিল সর্বশেষ। তবে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতেছি। কোথাও কোনো ভাঙন দেখা দিলে আমরা সেটা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবো। আমাদের পর্যাপ্ত জিও ব্যাগসহ অন্যান্য সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আমাদের ৪৪টি গেট সবসময়ই খোলা থাকে। বর্ষায় উজান থেকে প্রচুর পানি আসে এই পানিটা নামার জন্য ৪৪টি গেটই খুলে রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, এবার বর্ষাটা একটু দেরিতে এসেছে। তিস্তার চরে কৃষকরা বিভিন্ন ফসল চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এবার যেহেতু বর্ষা দেরিতে এসেছে কৃষকরা আগেই তাদের ফসল তুলে নিতে পেরেছে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।