☰
✕

মহাকাশে এআই চিপ পরীক্ষা করবে গুগল, শুরু হচ্ছে ‘সানক্যাচার’ প্রকল্প

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করতে নতুন পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছে গুগল। ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’-এর আওতায় আগামী সপ্তাহে একটি পরীক্ষামূলক উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাবে প্রতিষ্ঠানটি।

এটি হবে মহাকাশে গুগলের এআই চিপ পরীক্ষার প্রথম উদ্যোগ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক উপগ্রহটি স্পেসএক্সের ‘ট্রান্সপোর্টার-১৮’ রাইডশেয়ার উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে। এতে অংশীদার হিসেবে থাকছে উপগ্রহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবস।

উপগ্রহটি নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে (এলইও) পৌঁছানোর পর গুগলের তৈরি ‘টেনসর প্রসেসিং ইউনিট’ বা টিপিইউ চালানো হবে।

মহাকাশের কঠিন পরিবেশে চিপগুলো কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, সেটিই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।

 

মহাকাশে থাকা অবস্থায় চিপগুলোকে তীব্র বিকিরণ, প্রচণ্ড তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং উৎক্ষেপণের ধাক্কা সহ্য করতে হবে। বিশেষ করে মহাকাশের বিকিরণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে তথ্যের ভুল বা ‘বিট ফ্লিপ’-এর মতো ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

গুগল জানিয়েছে, তারা ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাসের একটি স্থাপনায় এআইয়ের কাজ চালিয়ে টিপিইউ পরীক্ষা করেছে। তবে বাস্তব মহাকাশ পরিবেশে চিপগুলো কিভাবে কাজ করে, তা বুঝতে কক্ষপথে পরীক্ষা প্রয়োজন।

 

মহাকাশে চিপ ঠাণ্ডা রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর মতো সেখানে সাধারণ বাতাসের মাধ্যমে তাপ সরানোর ব্যবস্থা নেই। তাই গুগল তাপ পরিবাহী পাইপ ও বিশেষ তাপ বিকিরণকারী যন্ত্র ব্যবহার করে চিপ ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে এআই তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের ধারণা এখনো বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উৎক্ষেপণের উচ্চ খরচ, প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতা এবং উপগ্রহ তৈরির সীমিত সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

 

গুগল জানিয়েছে, প্রথম সানক্যাচার মিশনের লক্ষ্য মহাকাশে পুরোপুরি কার্যকর তথ্যকেন্দ্র চালু করা নয়। বরং কক্ষপথে তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সমস্যা ও দুর্বল জায়গাগুলো শনাক্ত করাই এর উদ্দেশ্য।

এরপর ২০২৭ সালে আরও দুটি উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের। এসব পরীক্ষায় ভবিষ্যতের মহাকাশভিত্তিক এআই কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চগতির লেজার যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।