☰
✕

মাস্টার্সের আগেই সিভিল জজ হলেন ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করার আগেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) নিয়োগ পরীক্ষায় সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১০ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে- চারজন মেধাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করেছেন। স্নাতক শেষ করেই বিচার বিভাগে প্রবেশের এই সাফল্য তাদের অ্যাকাডেমিক ও পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে সামনে এসেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তারা সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত ১০ শিক্ষার্থী হলেন– মো. হানিফ মিয়া (৪র্থ), সৈয়দা শাওলিন আক্তার আলো (৫ম), মোহিউদ্দিন (৬ষ্ঠ), পারভেজ রহমান (১৩তম), ফজলে রুহানি, মো. আইনুল হক, মাহিয়া মারিয়াম, নাফিউল ফয়সাল পৃথুল, সুরাইয়া কবির ও এস এম বাকিবিল্লাহ।

ঢাবির আইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের এসব শিক্ষার্থী বর্তমানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন। স্নাতক শেষ করে প্রথমবারের মতো বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক- তিন ধাপেই উত্তীর্ণ হয়ে এ সফলতা অর্জন করেন বলে জানিয়েছেন তারা।

ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য অর্জনের পর বিচার বিভাগে প্রবেশের পরীক্ষাতেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সৈয়দা শাওলিন আক্তার আলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৬তম স্থান অর্জন করা আলো এবার বিজেএস মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন।

স্বপ্নজয়ের সেই মুহূর্তের অনুভূতি ঢাকা পোস্টের সঙ্গে শেয়ার করে সৈয়দা শাওলিন আক্তার আলো বলেন, “আমি উদ্ভাসে ক্লাস নিতাম, তাই ক্লাস শেষ করে হলে আসি। হলে এসে দেখি সবাই বলাবলি করছে যে কিছুক্ষণের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেবে। কে যেন বলল রেজাল্ট পাবলিশ হয়েছে। আমি ভয় পেয়ে অজু করতে যাই। অজু করে এসে ভাবলাম পিডিএফ খুলে দেখব। পিডিএফ খুলে দেখতে দেখতে ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বরে গিয়ে আমার রোলটা দেখতে পাই। তখন আনন্দে কান্না চলে আসে, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার বাবা-মা ও ভাইকে জানাই।”

বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনার বিষয়ে শাওলিন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা খুব উন্মুক্ত। এখানে শুধু লেকচার দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়; সেটি সম্পূর্ণ করতে সহায়ক বই, সিনিয়রদের নোট এবং ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করে অনেক পড়তে হয়। না পড়লে রেজাল্ট নির্ঘাত খারাপ হয়, কোনো শর্টকাট নেওয়ার উপায় নেই। আমি যেহেতু রানিং স্টুডেন্ট এবং মাস্টার্স কমপ্লিট করিনি, তাই এই অবস্থায় ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট সামলে আমাকে ওভারটাইম প্রিপারেশন নিতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অর্গানাইজড কোনো গ্রুপ স্টাডি করিনি। তবে কোনো বিষয়ে আটকে গেলে ক্লাসের যে সহপাঠী ওই টপিক ভালো জানত, তার কাছে গেলে কেউ মুখ ফেরায়নি। একইভাবে আমার কাছে কেউ জানতে চাইলেও সাধ্যমতো সাহায্য করেছি। নির্দিষ্ট সময় নিয়ে প্রতিদিন গ্রুপ খুলে আলোচনা না করলেও, যারা আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি বা ভাইভা দিয়েছিলাম, তারা সবাই পরস্পরকে খুব হেল্প করেছি।”

অন্যদিকে, একই ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল ফয়সাল পৃথুল ১০৩তম মেধাস্থান অর্জন করেন। তার সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। ফলাফল প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যদের আনন্দ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে জানান তিনি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পৃথুল বলেন, “আমার পুরো পরিবার এত বেশি খুশি হবে, সেটা কখনো ভাবিনি। ফলাফল কেবলই রিজিকের বিষয়- এ বিশ্বাসটা আমার মধ্যে সবসময়ই ছিল। রেজাল্টের পর একের পর এক ফোনকল, পরিবারের সদস্যদের দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট, কমেন্ট, এমনকি রিয়্যাক্টেও- যে উচ্ছ্বাস আমি দেখেছি, তা সত্যিই অভাবনীয়। সবার আনন্দের উপলক্ষ্য হতে পারার জন্য কতভাবে, কতটা শুকরিয়া আদায় করা যায়, তা আমি জানি না।”

পৃথুল আরও বলেন, “গতকাল থেকে আমার শুকরিয়ার বড় জায়গাজুড়ে আছে একটি বিষয়- আমার কারণে আমার পুরো পরিবার এতটা আনন্দিত। তাদের এই খুশির কারণ হতে পারা আমার কাছে সাফল্যের চেয়েও গভীর এক অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ।”

ঢাবির আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এই ১০ শিক্ষার্থীর সাফল্য তাদের অ্যাকাডেমিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্নাতক শেষ করার পর মাস্টার্স সম্পন্ন করার আগেই বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া তাদের সামনে পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে। তাদের সাফল্য একই সঙ্গে সহপাঠী ও পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি গল্প।