২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকার রাজশাহীর জুটমিলে দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি শনিবার জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৮টি স্পটে একযোগে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও জেলার সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যনীতির মূল শক্তি হলো প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা চাই, রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা হোক। এজন্য ডেঙ্গুসহ সব মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করা যাবে। কাটাখালী পৌরসভার সামনে আয়োজিত এই অভিযানে জেলা প্রশাসক নিজ হাতে হাসুয়া ও ফগার মেশিন দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার কাজ করা হয়। কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আরিফ হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুম মুনীরাসহ কাটাখালী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।