২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এবং ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
রবিবার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন তিনজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গিয়াস উদ্দিন জানালেন, ‘হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
ওসি আরও বলেন, এই হামলা-ভাঙচুর শুধু কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হয়নি, নিউ গিনি প্রপার্টিজের অনেক কিছুই ভাঙচুর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে৷ অভিযুক্তদের আটকে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বলেন, ‘ওইখানে নিউ গিনি প্রপার্টিজ আছে। সেখানে দুইটা পক্ষ আছে। এই দুই পক্ষের ঝামেলার মধ্যে পড়ে গেছে সালমান মুক্তাদিরের এই স্টুডিও।’
শনিবার ফেসবুক লাইভে সালমান বলেন, ক্লায়েন্টদের অনেক ফুটেজ ও শুটিংয়ের উপকরণ স্টুডিওতে ছিল। সেগুলো হারিয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে সালমান বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তার দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এমন স্টুডিও দেশে খুব বেশি নেই। তার স্টুডিওটা নষ্ট হয়ে সামগ্রিক ক্ষতি হলো।
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’ তবে সালমানের এ অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পরও কাজ বন্ধ করবেন না বলে জানিয়েছেন সালমান। বলেন, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’
সালমান জানান, স্টুডিওটি তার জন্য শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল না; এর সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কাজ জড়িয়ে ছিল। তাই হামলায় স্টুডিওটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি থেমে যেতে চান না।
তার ভাষায়, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’ হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির।