☰
✕

জেলের পেটে কীভাবে ঢুকল ৬০ সেন্টিমিটারের বাইম

০৩ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের এক জেলের পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে বৃহদান্ত্র ফুটো করে পেটের ভেতরে চলে যায় প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি বাইম মাছ। পরে অস্ত্রোপচার করে মাছটি বের করেন চিকিৎসকেরা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পেটের ভেতর থেকে বের করার সময়ও মাছটি জীবিত ছিল।

অস্বাভাবিক এ ঘটনাটি নিয়ে একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তীব্র পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যান। হাসপাতালে যাওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে তাঁর পেটে ব্যথা শুরু হয়।

চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, তার শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও হৃদস্পন্দন বেড়ে মিনিটে ১১০ বার হয়েছে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি জানান, এর আগের দিন দুর্ঘটনাবশত একটি বাইম মাছ তার পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে যায়।

ওই সময় তিনি লুঙ্গি পরা ছিলেন। জেলে জানান, লুঙ্গির নিচের খোলা অংশ দিয়ে মাছটি ঢুকে পায়ুপথের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে চলে যায়।

পরে শারীরিক পরীক্ষায় তার পেট শক্ত ও স্পর্শকাতর পাওয়া যায়। এক্স-রে করলে পেটের ডান পাশে বাইম মাছের আকৃতির একটি কালো ছায়া দেখতে পান চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, মাছটি অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে পেটের ভেতরে ঢুকে গেছে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে অন্ত্র ফুটো হওয়ার কারণে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এরপর অস্ত্রোপচার করে দেখা যায়, মাছটি বৃহদান্ত্রের সিগময়েড অংশ ফুটো করে পেরিটোনিয়াল গহ্বরে ঢুকে আছে। চিকিৎসকেরা সেখান থেকে মাছটি বের করে আনেন।

মাছটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, মাছটি তখনো জীবিত ছিল।

চিকিৎসকদের ধারণা, অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করে মাছটি পেরিটোনিয়াল গহ্বরে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা তরলের কারণে কিছু সময় জীবিত থাকতে পারে। তবে এত দীর্ঘ সময় মাছটি কীভাবে জীবিত ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

অন্ত্র ফুটো হয়ে পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স