০৫ অক্টোবর, ২০২৬
ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালানো শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুরের বাইমাইল বা নাওজোড় এলাকা থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার প্রায় সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি পিচ্চি রাজাকে। তবে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা, দায়িত্বে অবহেলা এবং পরে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
গ্রেফতার দুজন হলেন প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার এবং চালক নায়েক কামাল হোসেন। এ ঘটনায় তাদের আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাদের কারাগারে ফেরার পথে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। প্রথমে পুলিশ দাবি করেছিল, রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় বা বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে তাকে শৌচকর্মের জন্য নামানো হলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।
তবে ঘটনার পর গঠিত তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তারা আসামি কোথা থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়ে একেক সময় একেক তথ্য দেন। পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছিলেন।
পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম জানান, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা এখনো সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিচ্চি রাজা মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে।