☰
✕

প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়লে কুটির শিল্পের বাজার সম্প্রসারিত হবে : গয়েশ্বর

০৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘরে বসেই মানুষ সম্মানজনকভাবে কুটির শিল্পের মাধ্যমে পোশাক খাতের চেয়েও বেশি আয় করতে পারে। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে। অর্থাৎ ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে হবে। এতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের চাহিদার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যের কদর এখনও রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মধ্যেও মানুষ আবার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য একদিকে মানুষের সৌন্দর্যবোধকে সমৃদ্ধ করছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, সেই পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর প্রচারও জরুরি। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে কুটির শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অনেক নারী ঘরে বসেই এসব কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন।

বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান ও অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান।

আয়োজকরা জানান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে শুরু হওয়া ‘শরৎমেলা’ আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।