☰
✕

দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কল করতে পারবেন

০৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে যখন সাধারণ টাওয়ারভিত্তিক নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে, তখন এই স্যাটেলাইট সেবা মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে গভীর সাগরে বা সাগরে মাছ ধরা জেলে, দেশের পাহাড়ি বা চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকার বাসিন্দা এবং ভ্রমণপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এই প্রযুক্তি আশীর্বাদস্বরূপ। এমনকি বাংলাদেশের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) অন্তর্ভুক্ত গভীর সমুদ্র এলাকাতেও এই সেবার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ পাওয়া যাবে।

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এই সেবা পেতে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ যন্ত্র বা দামি ফোনের প্রয়োজন আছে কি না। এর উত্তর হলো, বাংলালিংকের নিজস্ব সংযোগ এবং একটি ফোর-জি-সক্ষম স্মার্টফোন থাকলেই গ্রাহক এই সেবাটি উপভোগ করতে পারবেন। আকাশে পরিষ্কার দৃশ্যমানতা বা খোলা আকাশ দেখা গেলেই গ্রাহক নিজ অবস্থান থেকে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন, অর্থাৎ ব্যবহারকারী কোথায় আছেন তার ওপর আর নেটওয়ার্ক পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে না।

এই নতুন সেবার খরচ ও অফার সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে বাংলালিংক। সেবা চালুর প্রথম মাসে যেকোনো বাংলালিংক ইন্টারনেট বা মিক্সড বান্ডল প্যাক কিনলে গ্রাহকেরা কোনো রকম বাড়তি খরচ ছাড়াই স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। এরপর দ্বিতীয় মাস থেকে নির্ধারিত কিছু মাসিক ইন্টারনেট ও মিক্সড বান্ডলের সঙ্গেও কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকেরা প্রতি মাসে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাঁচটি এসএমএস পাঠাতে পারবেন।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে এই সেবা চালুর বিষয়ে বলেন, সংযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষ। পরিবারের দূরবর্তী স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, গভীর সমুদ্রে থাকা কোনো জেলের বার্তা পাঠানো কিংবা দুর্গম অঞ্চলে বিপদে পড়া মানুষের সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব সুবিধা তৈরি করা এবং দূরত্বকে যোগাযোগের পথে বাধা হতে না দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।