০৯ অক্টোবর, ২০২৬
দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বৈচিত্র্য বাড়াতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারে নতুন পণ্য যুক্ত করা, বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কমিশন কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ডাইভারসিফিকেশন ফর রেজিলিয়েন্স : দ্য রোল অব কমোডিটি ডেরিভেটিভস ইন আ মডার্ন ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও’ শীর্ষক সেমিনারে পুঁজিবাজারের বৈচিত্র্য, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং নতুন বিনিয়োগপণ্য চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো পুঁজিবাজারে সুষ্ঠু লেনদেন নিশ্চিত করা, কারসাজি প্রতিরোধ করা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী ব্যক্তিশ্রেণির হওয়ায় তাদের স্বার্থ রক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার এবং বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের মূলধন বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), সরাসরি তালিকাভুক্তি এবং নতুন পদ্ধতিতে কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি করপোরেট বন্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্টের (রেইট) মতো নতুন পণ্য চালুর বিষয়েও কাজ করছে কমিশন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারের গভীরতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন ও ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সক্রিয় বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের সংখ্যায়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব সংকটের সমাধানের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগপণ্য যুক্ত করা জরুরি।
তিনি বলেন, বন্ড, ট্রেজারি বিল ও মিউচুয়াল ফান্ড থাকলেও এসব পণ্যের লেনদেন প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। ফলে দেশি-বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সিএসই কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ বাজারের আইনি ও কারিগরি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলছে। ব্রোকারদের জন্য মক ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাজারে কমোডিটি বাজারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এ ধরনের বাজার চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিএসইসি চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান মো. মুর্তুজা আলম। আলোচনা পর্বে অংশ নেন বি রিচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক খন্দকার সাফফাত রেজা এবং সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। আলোচনাপর্ব পরিচালনা করেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিএসইর পরিচালক, ট্রেকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে সিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগের ঝুঁকি মোকাবিলা ও বাজারকে স্থিতিশীল করতে ইকুইটি, ফিক্সড ইনকাম, কমোডিটি ডেরিভেটিভস ও মুদ্রাবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে পেনশন, বিমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনার শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান সিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর অগ্রগতি, সিএসইর চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।