১০ অক্টোবর, ২০২৬
চলতি বছরের কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাই ও আগস্টে রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পর সেপ্টেম্বরে তা আরও তীব্র হয়। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ৯ দিনে ডেঙ্গুতে অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, অক্টোবরেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বরেই সর্বোচ্চ মৃত্যু, অক্টোবরে বাকি সময়ে উদ্বেগ ডেঙ্গু রোগীর অনেকেই হাসপাতালে আসেন। বাকিরা সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। তবুও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় লাখের ঘরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৫১ জন। তার মধ্যে মারা গেছেন ২৯৫ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩৮০ জন। এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৭৭৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বরে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের এ পর্যন্ত এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে সেপ্টেম্বরে। এর পর অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনেই ৫০ জনের মৃত্যু আর হাসপাতালে ভর্তি ১৫ হাজার ৮৩১ জন। এ তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চলতি মাসের বাকি সময়ে সেপ্টেম্বরের চেয়েও ডেঙ্গুতে বেশি রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। জুনে মারা যান ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন। সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে।
রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানেও একই প্রবণতা। জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০৬ জন। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রোগী ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ ছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ভর্তি হন ৭১৪ জন এবং জুনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২ হাজার ৯০৭ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকা, মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রাজধানীর বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিক হলো, সংক্রমণের চাপ রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্যমতে, গতকাল ডেঙ্গু নিয়ে আরও ১ হাজার ৩০০ জন মানুষ রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে খুলনায় একজন শিশু মারা গেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি রাজধানীর বাইরের রোগী। তার মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৪১ জন, চট্টগ্রামে ৩১৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৪৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৬, খুলনায় ২৭৪, ময়মনসিংহে ৬৯, রংপুরে ৮০ এবং সিলেটে চারজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চিকিৎসায় দেরি হলে বাড়তে পারে মারাত্মক ঝুঁকি ডেঙ্গুতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ২৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৫ হাজার ৪৫১ জন রোগীর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩৮০ জন। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও চাপ অব্যাহত রয়েছে নতুন রোগীর।