☰
✕

৫ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন

১০ অক্টোবর, ২০২৬

দেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। আক্রান্ত নারীদের ৬০ শতাংশই জানেন না, তাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি দুই হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একটি থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ অবস্থায় থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ‘থাইরয়েড সেবায় শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি বলেন, মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে থাইরয়েড সোসাইটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিটিএসের সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বিটিএসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম ও ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা।

দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে তিনটি অধিবেশনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি, থাইরয়েড-সম্পর্কিত চোখের রোগ এবং রোগী পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এতে বক্তব্য দেন সোহরাওয়ার্দী ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম প্রমুখ।

ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী। এসব নারীর ৬০ শতাংশই জানেন না, তারা থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। এ ছাড়া ২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও রোগ শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি। সম্মেলনের ফ্রি পেপার ও পোস্টার সেশনে ১২টি মৌখিক এবং ১০টি পোস্টার উপস্থাপনা করা হয়। এতে অনির্ণীত থাইরয়েড রোগ, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, রেডিওআয়োডিন চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জিনগত বিশ্লেষণ ও বিরল রোগের বিভিন্ন কেস নিয়ে আলোচনা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উপস্থাপকদের পুরস্কৃত করা হয়।