☰
✕

সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করল ওয়ালটন: সোলারে চলবে ফ্রিজ-এসি-টিভি

১১ অক্টোবর, ২০২৬

শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম’ প্রযুক্তির উন্মোচন করেছে টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সূর্যের আলো ব্যবহার করে শতভাগ পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয় ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পাশাপাশি বাসাবাড়ির দৈনন্দিন ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনায় এ প্রযুক্তি কাজ করবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সোলার ইকো-সিস্টেমের উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে। এর ফলে আগামী এক-দুই বছরে দেশে বিপুল পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা কম খরচে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। এতে জ্বালানি আমদানি কমবে এবং দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

বর্তমানে ওয়ালটন তাদের নিজস্ব কারখানায় রুফটপ ও ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা দেশের একটি বড় জেলা শহরের মোট চাহিদার সমান। নিজস্ব কারখানার জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানিটি জাতীয় গ্রিডে বছরে গড়ে প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

এই সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় ওয়ালটন কেবল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনই করছে না, বরং বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য সৌরশক্তি নির্ভর সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ নানা ধরনের গ্যাজেট ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স তৈরি করছে। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে কোনো ব্যাটারি ছাড়াই হাইব্রিড প্রযুক্তির সোলার ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলবে। তবে সৌরবিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করবে।

এছাড়া, এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) প্রযুক্তির সমন্বয়ে সৌরবিদ্যুৎ নির্ভর ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ও রাইস কুকার এবং বিএলডিসি ফ্যান বাজারে এনেছে ওয়ালটন। দিনে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা রেখে তা রাতে বা সুবিধাজনক সময়ে ব্যবহার করা যাবে। তাদের ইনভার্টার ব্যাটারিতে সৌরশক্তি ও গ্রিড—উভয় উৎস থেকেই চার্জ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে ওয়ালটনের তাকিওন ই-বাইকে যুক্ত করা হয়েছে ‘ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম’। এটি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজে রূপান্তর করে, যা যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের নিরাপদ সঞ্চালনের জন্য ইউভি রশ্মি ও প্রতিকূল পরিবেশসহনশীল বিশেষ ফটোভোলটাইক (সোলার) ক্যাবলও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না।

ওয়ালটনের উদ্যোক্তারা জানান, এই ইকোসিস্টেম গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এটি দেশীয় উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে বিশ্ববাজারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন।