☰
✕

হাজী ওসমান গনি কলেজে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি

১২ অক্টোবর, ২০২৬

গাইবান্ধার দারিয়াপুর হাজী ওসমান গনি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ বাতিল এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে দারিয়াপুরের তেঁতুলতলায় ‘সচেতন দারিয়াপুরবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী লিলি রানী, ফরিদুল ইসলাম, আপন কুমার, শীতল, মমিন, ওয়াহেদুন্নবী, তহিদুল ইসলাম, সজীব সরকার ও দিলীপ কুমারসহ অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে এসব নিয়োগ বাতিল করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দ্রুত নিয়োগ বাতিল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো জেলায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

মানববন্ধন শেষে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং নিয়োগ বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার কলেজটিতে স্থায়ী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত বাদ পড়েন হরিজন সম্প্রদায়ের লিলি রানী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কলেজে বিনা বেতনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও স্থায়ী নিয়োগ পাননি। তাঁর পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে অন্য এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

লিলি রানীর পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো যাচাই করে ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি।

ভুক্তভোগী লিলি রানী বলেন, চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। শেষ পর্যন্ত স্থায়ী নিয়োগের তালিকায়ও তাঁর নাম আসেনি।

তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।