☰
✕

পরিবেশবান্ধব নির্মাণে রিহ্যাবকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

১২ অক্টোবর, ২০২৬

পরিবেশবান্ধব নির্মাণে রিহ্যাবকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্মাণস্থলে ধুলা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্মাণ ও মেরামতকাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্মাণস্থল যথাযথ আবরণ দিয়ে ঘিরে রাখা, মাটি-বালিসহ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে সংরক্ষণ এবং পরিবহনের সময় যানবাহন আচ্ছাদিত রাখতে হবে।

নির্মাণসামগ্রী ও বর্জ্য পরিবহনকারী যানবাহনের চাকা পরিষ্কার করে সড়কে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক ও ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ধুলিদূষণ ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি নির্মাণস্থল ও আশপাশে প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার পানি ছিটানো এবং ধুলার পরিমাণ অনুযায়ী আরো ঘন ঘন পানি ছিটানোর ওপর গুরুত্ব দেন। নির্মাণবর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা বা পোড়ানোর পরিবর্তে দ্রুত পরিবেশসম্মতভাবে অপসারণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ধুলিদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পের দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো ও বর্জ্য অপসারণের কাজ তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে প্রকল্পভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের পক্ষে সভাপতি ড. আলী আফজাল এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক তাদের মতামত তুলে ধরেন। ব্লকের গুনগত মান নিশ্চিত এবং ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহারে খরচ যাতে না বাড়ে, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে সরকারকে অনুরোধ জানান।

সভায় নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্লকের ব্যবহার সম্প্রসারণে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়, বিল্ডিং কোড ও ভবন নির্মাণ অনুমোদনে ব্লক ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্লকের ওপর ভ্যাট, কর ও কাঁচামালের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক করার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। একইসঙ্গে নির্মাণ প্রকল্পে পরিবেশগত বিধিবিধান প্রতিপালন জোরদার, প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতির তথ্য সংগ্রহ এবং নিয়মিত পরিবীক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।