১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থনে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এই গণজোয়ার দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়েছে। এজন্যই দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যতবেশি বাধা আসবে জনগণ ততবেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে। তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচনী মাঠে নামতে শুরু করলে মাদক-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের গডফাদারের পরাজয় ঠেকানো যাবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের সেনপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে। আগামী ২৯ অক্টোবর মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা নির্বাচিত হলে সমাজে কোনো মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না, থাকতে পারবে না।
কারো মিষ্টি কথায় এবং কোনো রকম মিথ্যা প্রলোভন, প্ররোচনায় প্রতারিত না হতে ঠাকুরগাঁওবাসীতে সতর্ক করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যখন মাদক কারবারি বলবে সমাজে মাদক থাকবে না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গডফাদার বলবে সন্ত্রাস থাকবে না; তখন বুঝে নিতে হবে সর্ষের ভেতরে ভূত আছে। এরা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে।
তিনি বলেন, যেই দলের প্রধান জনগণকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার গঠন করার পর গণভোটের রায় মেনে নেয়নি, যেই দলের শীর্ষ নেতারা বলে আমাদের ওই প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য সেই দলের মার্কায় আর ভোট দেওয়া যায় না, যাবে না। যদি আবারও ভুল করে সেই দলের মার্কা ভোট দেওয়া হয় তবে জনগণ আবারও প্রতারিত হবে, জুলুমের শিকার হবে, শোষণের শিকার হবে। দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিলে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফেরত আসবে, জনগণের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের কবর রচনা করতে একটিবার সুযোগ চেয়ে তিনি স্থানীয়দের আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয়, যারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ঠাকুরগাঁও বাসীর এমপি হতে চায় তারাই প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণা বাধা সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, যখন একজন প্রার্থী মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে বাইরে আসলে আরেকজন প্রার্থীর সমর্থনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আক্রমণের চেষ্টা করে, প্রচারণা বাধা দেয় তখন বুঝতে বাকি থাকে না ওই প্রার্থীর অনুসারী কেবল সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজেরা। কোনো সমাজে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গডফাদারের হাতে সমাজের নেতৃত্ব চলে গেলে ওই সমাজের মানুষ জুলুম ও শোষণের শিকার হতে হয়। জুলুম ও শোষণের হাত থেকে বাঁচতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
শুখানপুকুরী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবুল কাশেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।