১৬ অক্টোবর, ২০২৬
বৃহস্পতিবার কনের বাড়িতে ছিল গায়ে হলুদের আয়োজন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিয়ে, তাই বরকে বরণ করতে বাড়িজুড়ে সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জার গেট।
অন্যদিকে বরের বাড়িতেও চলছিল নববধূকে বরণের প্রস্তুতি। দুই পরিবারেই ছিল উৎসবের আমেজ। কিন্তু বিয়ের আগের রাতেই সব আনন্দ বদলে গেল শোকে। বর সাজার অপেক্ষায় থাকা মেধাবী ছাত্র আরিফ শাহরিয়ার সৌমিকের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে দুই পরিবারসহ পুরো মহল্লা।
২১ বছর বয়সী সৌমিক গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কম্পানিপাড়ার বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে উত্তীর্ণ হন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সৌমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, বন্ধু, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এমন ঘটনায় কেউই যেন তা মেনে নিতে পারছেন না।
সৌমিকের পাড়ার বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি সৌমিককে চেনেন। ছেলেটি ছিল বিনয়ী ও অদম্য মেধাবী। বিয়ের ঠিক আগের দিন তার মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। নতুন জীবন শুরুর মুহূর্তে তাকে হারানোর শোক পরিবার কখনোই সামলে উঠতে পারবে না।
সৌমিকের একমাত্র বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন সৌমিক।
গত চার দিন ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন মুরাদ ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর ওষুধপত্র নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্বজনরা।
পরে বিকেলে সৌমিকের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারমিনের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসেছিলেন সৌমিক। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার সৌমিকের বিয়ের আয়োজন ছিল। পরদিন শনিবার নবদম্পতির বউভাত অনুষ্ঠানেরও কথা ছিল। তবে বিয়ের আনন্দের বদলে এখন দুই পরিবারেই চলছে শোকের মাতম।