১৬ অক্টোবর, ২০২৬
গত মার্চের ঘটনা। মিসরের বিপক্ষে খেলার সময় স্পেনের ভক্ত-সমর্থকরা দুইবার ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেয়। তাদের এই কৃতকর্মের শাস্তি পেল গত জুলাইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেন।
মিসর ম্যাচে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়ার কারণে স্পেন দলকে ২০ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচ খেলতে হবে আংশিক রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরের ম্যাচে স্টেডিয়ামের অন্তত ১৫ শতাংশ আসন খালি রাখতে হবে।
গত ৩১ মার্চ লা লিগা ক্লাব এস্পানিওলের ঘরের মাঠ আরসিডিই স্টেডিয়ামে ফিফা উইন্ডোতে মুখোমুখি হয় স্পেন-মিসর। গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। ১০ জনের দলের বিপক্ষেও জিততে না পড়ার সঙ্গে স্বদেশী সমর্থকদের আচরণে তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। প্রথমার্ধে ইসলামবিদ্বেষী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।
একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিস বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে– ‘ফুটবলে সকল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আরএফইএফ। একইসঙ্গে স্টেডিয়ামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাচ্ছে।’
মিসরের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচ চলাকালে বেশ কয়েকবার দর্শকদের একাংশ গাইতে থাকে– ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম।’ এ ছাড়া বিরতির সময় মিসরীয় ফুটবলাররা হাঁটু গেড়ে বসা ও মাঠে চুমু দেওয়ার সময় তাদের উদ্দেশে শিস বাজায় কেউ কেউ। স্পেনের প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের হেয় করাই যে এর উদ্দেশ্য তা বিস্তারিত বলা বাহুল্য। খেলা শেষে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের সমাজচ্যুত করার দাবি তুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
স্পেনের মুসলিম উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল সে সময় এই স্লোগানগুলোর নিন্দা জানান। একই সঙ্গে সেগুলোকে অসম্মানজনক ও অসহনীয় বলে অভিহিত করেন এবং এর জন্য দায়ীদের ‘অজ্ঞ ও বর্ণবাদী’ আখ্যা দেন।