☰
✕

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, মন্ত্রণালয়ে আগুন

১৬ অক্টোবর, ২০২৬

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা ৪র্থ দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।এর আগে বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী তিরানায় সরকারি ভবনে আগুন, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের একটি বহুমূল্য পর্যটন প্রকল্প ঘিরে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ আলবেনিয়ার জনবসতিহীন একটি দ্বীপ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর উপকূলীয় এলাকায় বিলাসবহুল মেরিনা ও পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গত কয়েক মাস ধরে চলা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এ সপ্তাহে বড় আকার ধারণ করে। এতে যোগ দেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাদের ক্ষোভের কারণ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সরকারি ভবনেও হামলা চালানো হয়। এসময় ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া, ট্রাফিক বাতি ভাঙচুর, বাসস্টপে ভাঙচুর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করেন।

এই সহিংসতা রামা সরকারের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভ

ফ্রান্সের মতো আলবেনিয়াতেও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, পড়াশোনার অতিরিক্ত খরচ ও স্নাতক হওয়ার পর চাকরি পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। আলবেনিয়ায় চলমান বিক্ষোভে এসব ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত পর্যটন প্রকল্পের বিষয়ে সরকার যথেষ্ট স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না। তাদের মতে, প্রকল্পটি ঘিরে তথ্যের ঘাটতি সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

দক্ষিণ আলবেনিয়ার যে উপকূলীয় এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে রয়েছে উপহ্রদ, সৈকত, উপসাগর ও সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া স্থলভাগ। এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখির আশ্রয়স্থল। সেখানে হাজার হাজার ফ্লেমিঙ্গোও বিচরণ করে।

এই উপকূল রক্ষার দাবিতে শুরু হওয়া প্রাথমিক আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’।

বিক্ষোভকারী এনিদা বিমি বলেন, ব্যবস্থাটির ওপর মানুষ খুব ক্ষুব্ধ। তাদের সবকিছু বদলে ফেলতে হবে।

আরেক বিক্ষোভকারী আরবার লেশি সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযোগ তুলে বলেন, আমাদের দেশ এর আগে কখনো এত দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখেনি।

সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার নিন্দা অর্থমন্ত্রীর

বুধবার সন্ধ্যায় সরকারি ভবনে হামলার নিন্দা জানান অর্থনীতিমন্ত্রী দেলিনা ইব্রাহিমাজ। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নয়। এটি এমন একটি কাজ, যা মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে আবারও রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পরে পুলিশ তাদের পিছু হটাতে উদ্যোগ নেয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তাকে তিরানার একটি কলেজ ক্যাম্পাসের কার্যালয়ে ভাঙা কাচ ও পুড়ে যাওয়া আসবাবের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে রামা বলেন, বুধবার পর্যন্ত এটি ছিল কলেজ অব ইউরোপের কার্যালয়, একটি ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে কথা বলতে, আলোচনা করতে ও সমাধান খুঁজতে আমরা সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু এগুলো ভিন্ন ধরনের মানুষের কাজ। আলবেনিয়া যখনই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখনই যারা দেশটিকে পিছিয়ে দিতে চায়, এগুলো তাদের কাজ।

রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

তিরানার বাইরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কোরচেতে একদল কিশোর একটি উচ্চবিদ্যালয়ের জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত বছর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এদি রামা। তার অন্যতম প্রতিশ্রুতি, আলবেনিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনে এগিয়ে নেওয়া।

তবে চলমান বিক্ষোভের মুখেও পদত্যাগ করতে রাজি নন তিনি। রয়টার্সকে রামা বলেন, গত বছর আমাদের নির্বাচন হয়েছে, বিপ্লব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমার দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা, যৌক্তিক উদ্বেগের সমাধান করা ও আলবেনিয়াকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।