☰
✕

দুর্গাপূজার ছুটি ঘিরে পর্যটকের ভিড়ে মুখর কক্সবাজার

১৭ অক্টোবর, ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে পর্যটন ব্যবসা। অনেক হোটেল-মোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পূজার ছুটিতে পাঁচ দিনে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।

সাধারণত নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ, সৈকতের মনোরম পরিবেশ ও অনুকূল আবহাওয়া উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকেরা। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ভ্রমণের মুহূর্ত। সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরি, ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়তেও দেখা গেছে অনেককে। কেউ সাগরে গোসল করছেন, আবার কেউ কিটকটে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের নির্মল বাতাস।

ঢাকার পান্থপথ থেকে আসা পর্যটক আলী আকবর বলেন, ‘অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিকেল থেকে সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে।’

পর্যটক পারভিন আক্তার বলেন, ‘কক্সবাজারের সৈকত পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। ছুটির দিনে পর্যটকদের এমন উপস্থিতি দেখে ভালো লাগছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

এদিকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। বিশেষ করে সাগরে গোসলের সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সৈকতে নিয়োজিত সি সেফের লাইফগার্ড কর্মী মো. শুক্কুর আলী বলেন, ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামা জরুরি।

পর্যটকদের আগাম উপস্থিতিতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন হোটেল-মোটেল মালিকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, ছুটির দিনগুলোতে আবাসিক হোটেলের কক্ষ বুকিং শতভাগে পৌঁছাতে পারে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘পূজার দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটি শুরুর আগেই কক্সবাজারে এভাবে পর্যটকের সমাগম হবে, তা ছিল কল্পনার বাইরে। এতে আমরা অনেক খুশি। আশা করছি, আগামী ২০ অক্টোবর থেকে পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে আগাম কক্ষ বুকিং চলছে। ইতোমধ্যে অনেক হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও। মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনাসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং পর্যটকদের হয়রানি রোধে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’