☰
✕

মানহানির মামলায় ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

১৭ অক্টোবর, ২০২৬

২০১৮ সালে দায়ের করা মানহানির একটি মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লির একটি আদালত। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের সদস্য বিকাশ পান্ডের দায়ের করা আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

এই মামলায় সমন জারি করতে গিয়ে আদালতের প্রতিনিধি দেখেন, রাঠীর বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে সমনটি জারি করা সম্ভব হয়নি। সাকেত আদালত শনিবার এই নির্দেশ দেয়। আদালত এখন ৩১ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন এই পরোয়ানা জারি করেন।

বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তি এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তার অভিযোগ, ধ্রুব রাঠী নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড করে তার মানহানি করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে আদালত রাঠীর কাছে সরাসরি সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছিল, যেখানে অভিযোগকারীকে সমন বহনকারীর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সব পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও আদালতকে জানানো হয়, রাঠীর বাড়ি তালাবদ্ধ থাকায় নোটিশটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছে।

মামলাটি ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যা বিকাশ পান্ডের মানহানি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ভিডিওটি রিটুইট করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার করেন, ভিডিওটি রিটুইট করা তার ভুল ছিল।

‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদী’ নামক সোশ্যাল মিডিয়া পেজের প্রতিষ্ঠাতা বিকাশ পান্ডে দাবি করেছিলেন, এই রিটুইটের ফলে তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই রাঠীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ঝুলে ছিল, কারণ বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তার কাছে সমন পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। অভিযোগকারীর দাবি, রাঠী দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের বাইরে থাকায় মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে।

কেজরিওয়াল তার রিটুইট সংক্রান্ত ফৌজদারি মানহানির মামলাটিকে চ্যালেঞ্জ করায় বিষয়টি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেজরিওয়াল সুপ্রিম কোর্টকে জানান, ভিডিওটি শেয়ার করা তার ভুল ছিল। বিচারপতি সঞ্জীব খান্না (যিনি পরবর্তীতে ভারতের প্রধান বিচারপতি হন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। কেজরিওয়াল দিল্লি হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন, যেখানে হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে জারি করা সমন বাতিল করতে অস্বীকার করেছিল।

দিল্লি হাইকোর্ট এর আগে সমন জারির আদেশ বহাল রেখেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, মানহানিকর বলে অভিযোগ ওঠা কোনো বিষয় রিটুইট করার ঘটনা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৪৯৯ ধারার অধীনে আইনি পদক্ষেপের কারণ হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি।