১৮ অক্টোবর, ২০২৬
বান্দরবানে বিয়ের আশ্বাসে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার শৈক্যসিং মারমা বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মারমার ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বান্দরবান সদর থানায় ওই নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক মারমা নারী। পরে অভিযান চালিয়ে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বান্দরবান শহরে বসবাস করছেন ওই নারী। অভিযুক্ত এনসিপি নেতা তার দূর সম্পর্কের দুলাভাই। বিবাহবিচ্ছেদের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বান্দরবান শিশু পার্কসংলগ্ন নিজের পরিচালিত সাইনি রিসোর্টে নিয়ে গত পাঁচ মাসে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের বিষয়ে কথা বললে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা এনসিপি অত্যন্ত বিব্রত। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, 'ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বান্দরবান সদরের মধ্যমপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তকে তার বাসা থেকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।