২০ অক্টোবর, ২০২৬
বেনামে বিমা পলিসি খোলা নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এক দিনে কোনো গ্রাহকের ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে সেই তথ্য সংস্থাটির কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশের সব বিমা কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং বিমা খাতে আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত কিংবা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত কোনো সন্ত্রাসী, গোষ্ঠী বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে বিমা ব্যবস্থার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি জটিল, অস্বাভাবিক ও যৌক্তিক আর্থিক উদ্দেশ্যবিহীন বিমা পলিসির ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।
গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, ছবি ও ঠিকানা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন উৎস থেকে যাচাই করতে হবে। গ্রাহকের পক্ষে অন্য কেউ পলিসি পরিচালনা করলে তাঁর যথাযথ ক্ষমতা রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের নামে বিমা পলিসি খোলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি অথবা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিককে মূল সুবিধাভোগী হিসেবে শনাক্ত করে তথ্য রাখতে হবে।
বিদেশি বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিমায় ঋণপত্র (এলসি), আমদানি-রপ্তানি চুক্তি ও জাহাজীকরণের নথিও ব্যাংকের রেকর্ডের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।
সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিএফআইইউতে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে।