২০ অক্টোবর, ২০২৬
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দীর্ঘদিনের বিরাজমান অচলাবস্থা নিরসন এবং ক্যাম্পাসে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জামিনুর রহমান জানান, চুয়েটের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে আহ্বায়ক এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসানকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দেশের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। তারা হলেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য।
জামিনুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, কমিটিকে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, কমিটি গঠনের বিষয়টি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হয়েছেন। অফিসিয়াল চিঠি হাতে পেলেই চুয়েটের উদ্ভূত সংকট কাটাতে তারা দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করবেন।
এর আগে গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) চুয়েটে চলমান সংকট সমাধান ও শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিতে ইউজিসিকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি জরুরি চিঠি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
চিঠিতে জানানো হয়, চুয়েটের সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, চুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্থবিরতা কাটাতে সদস্য পর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুততম সময়ে বিভাগে সুপারিশ পাঠাতে হবে।