২৪ অক্টোবর, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সপ্তম কেবিনেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে আজ। বছরব্যাপী চাকসুর নানা সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যর্থতাও। তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনায় পরবর্তী চাকসু নির্বাচন।
চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এক বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে সংসদের মেয়াদ। এরপর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। তবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি নির্বাচনের রোডম্যাপ। এরমধ্যে চলতি বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, গণতান্ত্রিক চর্চা, যোগ্য নেতৃত্ব ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের।
চবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন বলেন, ‘চাকসু থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। কিছু ঘাটতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য তারা অনেক কাজ করেছে। পরবর্তী নির্বাচন না হলে এসব কাজের ধারা থমকে যাবে। তাই আমরা দ্রুত পরবর্তী চাকসু নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানান চাকসু নেতারা। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘আমাদের অন্যতম একটি ইশতেহার ছিল চাকসু নির্বাচনকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করা। আমরা প্রথম কার্যনির্বাহী সভা থেকে এ দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাকসু নির্বাচন চাই এবং তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতে হবে। কারো ষড়যন্ত্র বা ভয়-ভীতির কারণে যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন থেকে পিছিয়ে যায়, শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘চাকসুকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। কারণ, চাকসুর অধিকাংশ কাজই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের মধ্যে চাকসুকে যথাসম্ভব কার্যকর রাখার চেষ্টা করেছি। আমার মতে, চাকসু অনেক বেশি কার্যকর একটি ছাত্র সংসদ ছিল।’
উপাচার্য বলেন, ‘আগামী চাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমাদের বক্তব্য একটাই– শান্ত, স্থিতিশীল ও নির্বাচনের পরিবেশ বজায় থাকলে আমরা যথাসময়ে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’