২৬ অক্টোবর, ২০২৬
বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন। একই দিনে রেলকর্মীদেরও ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে।
ফলে কর্মীদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে ট্রেন চলাচলসহ বিভিন্ন পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গত ৫ অক্টোবর সে-এফ-দে-তে, সে-ঝে-তে, ফোর্স উভ্রিয়ের, উনসা ও এফ-এস-ইউ যৌথভাবে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের পাশাপাশি তরুণ ও অবসরপ্রাপ্তদেরও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, বাড়ি ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লেও সেই অনুপাতে বেতন ও পেনশন বাড়ছে না।
পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সরকারি পরিষেবায় অর্থায়ন কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
সংগঠনগুলোর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক ভাতা পুনর্মূল্যায়ন, সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর উন্নয়ন এবং হাসপাতালসহ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান রক্ষা এবং করব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছে তারা।
গত ২২ অক্টোবর সে-ঝে-তে আন্দোলন আরো বিস্তৃত করার আহ্বান জানায়।
সংগঠনটির বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় ধর্মঘটের মাধ্যমে চাপ বাড়ানো প্রয়োজন।
রেল চলাচলেও বিঘ্নের আশঙ্কা
ফ্রান্সের রেল সংস্থা এস-এন-সে-এফের চারটি প্রধান শ্রমিক সংগঠন সে-ঝে-তে শেমিনো, উনসা ফেরোভিয়ের, সুদ-রেল ও সে-এফ-দে-তে শেমিনো ৫ নভেম্বর যৌথ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সুরক্ষা, বেতন বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়ন।
তবে কতসংখ্যক কর্মী ধর্মঘটে অংশ নেবেন এবং কোন রুটে কতটি ট্রেন চলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে দেশজুড়ে রেল চলাচল বন্ধ থাকবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে এস-এন-সে-এফের সর্বশেষ ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে কর্মস্থলে যাতায়াত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল প্রবাসীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া উচিত।
ফ্রান্সে শ্রমিক সংগঠনগুলোর এই কর্মসূচি সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতির ওপর চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এখন নজর থাকবে ধর্মঘটে কর্মীদের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ব্যাপ্তি এবং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে নতুন কোনো পদক্ষেপ আসে কি না সেদিকে।