☰
✕

অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে

২৭ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সালিশের পরদিন মধ্যবয়সি এক নারীর ‘আত্মহত্যা’র ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠক ও অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সালিশের পরদিন নাজমা খাতুন (৪৪) নামের ঐ নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার নাজমার মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

নাজমার স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম নাওড়া এলাকার আব্দুল খালেকের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে নাজমার সঙ্গে প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে সাইদুর রহমান পলাশ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঐ ব্যক্তি নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে নাজমার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পলাশ নাজমার সঙ্গে দেখা করতে পশ্চিম নাওড়া এলাকায় যায়। তার পরিচয় ও উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটকে রাখে। ঐ রাতেই তাদের দুজনের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। তবে বিয়ের নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে ঐ ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানায়, পলাশ নামে পরিচয় দেওয়া ঐ ব্যক্তির প্রকৃত নাম দুলাল চন্দ্র (৫৩)। তিনি উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকার অমল চন্দ্রের ছেলে। এরপর বিয়ের আয়োজন বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে  রাতভর আটকে রাখা হয়।

এ ঘটনার পর গত শনিবার রাতে উলিপুর পৌর শহরের একটি স্থানে সালিশ বৈঠক বসে বলে স্থানীয়রা জানায়। তাদের ভাষ্যমতে, ধামশ্রেনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সফি কামাল এবং পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউল হক বাদলসহ স্থানীয় কয়েকজন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যারা দুলাল চন্দ্রকে আটকে রেখেছিলেন, তাদের না জানিয়েই অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দুলাল চন্দ্রকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার অপবাদ সহ্য করতে না পেরে নাজমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। রবিবার দুপুরে বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাজমার মরদেহ দেখতে পায় স্বজনরা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ধামশ্রেনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বৈঠকে পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জিয়াউল হক বাদলসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় উভয়পক্ষের স্বজনদের নিয়ে মীমাংসা করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং উপস্থিত সবার সামনে নাজমার স্বজনদের হাতে ঐ টাকা তুলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউল হক বাদলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উলিপুর থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর ভাই একটি অপমৃত্যুর মামলা দিয়েছেন।