২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে- বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার মুখ থেকে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন তা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি তৈরি করে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এসব অধিকার খর্ব করা যায় না। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেই আইন নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে তার জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া বিবৃতিরও সমালোচনা করেন ছাত্রশিবিরের নেতারা। তাঁদের দাবি, ওই বিবৃতিতেও আইজিপির বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের মনোভাবকে তাঁরা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, কে অপরাধী এবং তার শাস্তি কী হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা। কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই। প্রচলিত আইনে কোনো অপরাধের শাস্তি হিসেবে ক্রসফায়ারের বিধান নেই বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অতীতের গুম, ক্রসফায়ার ও বিনা বিচারে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতাও ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম, ক্রসফায়ার ও বিনা বিচারে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।
শিবির নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য অতীতের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বক্তব্যটি ভবিষ্যতে ক্রসফায়ার চালানোর ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি অতীতে সংঘটিত এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ও প্রকারান্তরে স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করেন তারা।
ছাত্রশিবিরের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেআইনি বলপ্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি এ বিষয়ে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।