২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যুর পরে দাফন নিয়ে গণমাধ্যমে নানান ধরনের সংবাদ প্রচার হয়। কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে পরিবারের স্বজনেরা দুই বোন এবং মেয়ে আর জামাই মিলে লাশ দাফন করেছে। এলাকাবাসীর কেউ সহযোগিতা করেনি।
এরপরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানিক পশারীর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারীর পুরনো গণমাধ্যমকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকার পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করেন। সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায় তিনি এবং তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয় এবং তিনি আর্থিক লোভে না পরলেও তার বড় ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে এবং মিথ্যে সাক্ষী প্রদান করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চাঁন মিয়া পশারীর বাড়ি গিয়ে সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সেই ব্যক্তি তিনি কিনা। উত্তরে চাঁন মিয়া পশারী স্বীকার করেন এটা তার বক্তব্য। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে চান মিয়া পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছেলে না। সে সময় অনেক ছোট ছেলে সাঈদী। রাজাকার ছেলে রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা সেকেন্দার শিকদার এরা।
তিনি আরো বলেন, আমারে কেউ টাকার লোভ দেখায় নাই। ভাই রাজি হইছে কিনা আমি জানিনা।
মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন চাঁন মিয়া পশারী উত্তর দেন, তখন আমার ভাই মেট্রিক পাস। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি।
চাঁন মিয়া পশারী মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন তিনি উত্তরে বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিযোদ্ধায় আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই সে ভালো বলতে পারে। আমরা পাঁচটা ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই ও গুল্লি দেছে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই কারণ সাঈদীর ভালো বলছি এই কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোন সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম তাহলে তো আমার নামটা মুক্তি বাহিনীতে থাকতো।
মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম এর কাছে সাংবাদিকতা পরিবারের কতজন মুক্তিযুদ্ধা এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা বেগম বলেন, আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।
মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে হাসিনা বেগম ঠাট্টা করে বলেন, হয় আমার ভাইরে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে। মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন, আমি কিছু জানি না, আমার ভাই জানে।
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকরা হেনা পশারীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।