০৩ নভেম্বর, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দিলে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ প্রস্তাব দেন। দুই দেশের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির জবাবে নিজের অবস্থান জানান তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প ও তার দলের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষ হত্যা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল শোধনাগারে হামলা চালালে জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয় বলে তাদের জানিয়েছেন তিনি।
হামলা বন্ধের জন্য দুটি বিকল্প তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। প্রথমত, রাশিয়াকে ইউক্রেনের জ্বালানিব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে। শুধু সহায়তা হিসেবে নয়, ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে অর্থের ব্যবস্থাও ইউক্রেন করবে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এক মাসের জন্য প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সরবরাহ করলে একই সময় রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে কিয়েভ। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্যাট্রিয়ট।
এই প্রস্তাব ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা হতে পারে কি না, জানতে চাইলে জেলেনস্কি উদ্বেগ নাকচ করেন। তার ভাষায়, অংশীদারদের কাছে সত্য তুলে ধরতে তার কোনো উদ্বেগ নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সরবরাহ পেতে কয়েক বছর লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেন কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসার কথা জানাচ্ছে।
দ্রুত ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের নিজস্ব মজুত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন জেলেনস্কি। নতুন কেনাকাটার মাধ্যমে পরে সেই মজুত পূরণ করা যেতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হওয়ায় খেরসনের পূর্বাংশে সীমিত যুদ্ধবিরতি রোববার শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনা চলতি মাসে আবার শুরুর কথা রয়েছে।