☰
✕

চিংড়ি খাতকে পুনরুজ্জীবিত ও রাজস্ব বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

০৩ নভেম্বর, ২০২৬

সারা দেশের চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে এ খাতের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এ লক্ষ্যে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা সংশোধন করা হবে। একই সঙ্গে এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত চাষি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সারাদেশের চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চিংড়ি খাত একটি বিশাল সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এ খাতের ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতার কারণে সরকার যেমন কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না, তেমনি চিংড়ি ঘেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, চিংড়ি খাতের উন্নয়ন শুধু সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। তাই দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসন করে এ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

এদিকে, একই সভা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের একটি আদেশের মাধ্যমে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনা ও এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ওই আদেশের আলোকে কীভাবে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় করা যায়, সে বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে এ খাত যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে আরও কার্যকর করা হবে।