২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
শিক্ষার্থীদের যারা উত্ত্যক্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন মন্তব্য করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে বিকেল ৩টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। এবং তারা উপাচার্যের কাছে কিছু দাবি উপস্থাপন করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলাইমান।
মতবিনিময় শিক্ষার্থীরা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত নামে মামলা করতে হবে। কারণ তাদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। এছাড়াও আন্দোলন বাধা প্রদানকারী ও হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল ও কর্মচারী জসিম ও কর্মকর্তা জাকিরের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আন্দোলনে নিহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ূমের নামে একটি হলের নামকরণ করতে হবে। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের উত্যক্তকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। এছাড়াও শেখ হাসিনা হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করতে হবে।
দাবির বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, তোমাদের কথা আমি মনোযোগ দিশে শুনেছি। তোমাদের দাবিগুলো নোট করে নিয়েছি। যারা এখনও আহত হয়ে যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছে তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করি।
উপাচার্য বলেন, হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমি একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে তুলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। মামলার বিষয়ে আমি বলি আজকে মামলা করলে কালকে তারা তোমাকে মামলায় জড়াবে। কারণ মিথ্যার ওপর তারা গত ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে এমন করেছে। সুতারং স্পেসিফিকভাবে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মেয়েদের বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটনা করছে তথ্য প্রমাণ পেলে ক্যাপিটাল পানিশম্যান্ট দেওয়া হবে।
ভিসি আরও বলেন, শহিদ আবদুল কাইয়ুমের বিষয়ে আমরা সিন্ডিকেট মিটিংয়ে উপস্থাপন করব। চিকিৎসার জন্য আমাদের সুস্পষ্ট তালিকা দিলে আমরা উপদেষ্টামন্ডলীদের কাছে পাঠাব, তারা ব্যয় বহন করবেন। নতুন ক্যাম্পাসে গেলে একটা পরিবেশ বিষয়ক বিভাগ খুলব এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী বছর ডিসেম্বরে আমরা নতুন ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করতে পারব।