০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
শীতের এ মৌসুমে শাক-সবজির বাজারে প্রায় চোখে পড়ে পালং শাক। নানা গুণে সমৃদ্ধ এ শাকে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন এবং মিনারেলস। আমরা সাধারণত পালং শাক সিদ্ধ করে, সালাদ বা তরকারি হিসেবেই রান্না করে থাকি। কিন্তু পালং শাক জুস হিসেবেও খাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পালংশাকে থাকা কিছু নির্দিষ্ট যৌগ ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি কমাতে কার্যকর। যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। পালংশাকের জুসে প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে, যা রক্তনালিকে প্রশস্ত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন পালংশাকের স্যুপ খাওয়ার ফলে রক্তচাপ কমে ও পালংশাক খেলে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমে এবং রক্তপ্রবাহ মসৃণ হয়। ১ কাপ (২৪০ মিলি) পালংশাকের জুসে প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে, যা রক্তনালিকে প্রশস্ত করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
ত্বক ও চুলের যত্নে কার্যকর এই পালংশাক। পালংশাকের জুস উপকারী ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ভিটামিন ‘এ’ ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়ক ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন ‘সি’ ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, প্রদাহ এবং ত্বকের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। এটি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। আর এই কোলাজেন ত্বকের ক্ষত সারাতেও সহায়তা করে।
পালংশাকের জুস গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় কার্যকর। গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, লুটেইন এবং জিয়াজেনথিন চোখের ছানির ঝুঁকি কমাতে পারে। পালংশাকের জুস ভিটামিন ‘এ’র একটি ভালো উৎস, যা চোখের শুষ্কতা ও রাতকানা প্রতিরোধ করে।
পালংশাকে থাকা কিছু নির্দিষ্ট যৌগ ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি কমাতে কার্যকর। যদিও মানবদেহের ওপর এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে পালংশাকসহ সবুজ শাকসবজি খেলে ফুসফুস, প্রোস্টেট, স্তন এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।