১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় প্রায় ১১ মাস আগে বাড়িতে আড্ডা দেওয়া ও বড় চুল কাটতে বলার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুদাকান্ত লাহিড়ী (৬২) নামে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে মশিউর রহমান গংদের বিরুদ্ধে।
বৃদ্ধা মানুদাকান্ত দীর্ঘ ১১ মাস অজ্ঞান অবস্থাতেই ছিলেন। অবশেষে গতকাল শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাদপুর সার্কেল মো. কামরুজ্জামান।
নিহত মানুদাকান্ত লাহিড়ী উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের জামিরতা গুধিবাড়ী গ্রামের মৃত লক্ষীকান্ত লাহিড়ীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মশিউর রহমান (৪৫) ও তার দুই ছেলে আবির রহমান (২৫) ও নিবির রহমান সনি (২২)।
মারধরের ঘটনায় মানুদাকান্ত লাহিড়ীর স্ত্রী শান্তনা লাহিড়ী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে আবির রহমান ও নিবির রহমান সনি চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মানুদাকান্ত’র বাড়ির সামনে আড্ডা দিচ্ছিল এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল। এ সময় মানুদাকান্ত লাহিড়ী তাদের এসব করতে বারণ করেন এবং চুল বড় থাকায় চুল কাটতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবির ও সনির বাবা মশিউর রহমান মানুদাকান্তকে মোবাইলে কল করে জরুরি কথা আছে বলে তাদের বাড়ির সামনে ডেকে নেন।
মানুদাকান্ত সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে মশিউর রহমানের নির্দেশে তার ২ ছেলে আবির ও সনি তাদের সহযোগী কয়েকজন বখাটে যুবকসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মানুদাকান্ত লাহিড়ীর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর একপর্যায়ে মানুদাকান্তের নাক মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেন। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মানুদাকান্ত লাহিড়ীর স্ত্রী শান্তনা লাহিড়ী বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরে তারা প্রথমে পালিয়ে ছিলেন। এরপর তারা উচ্চ আদালত থেকে অগাম জামিন নেন। অগ্রিম জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তারা সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১৮ দিন জেল হাজতে থাকার পর আবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমাদের বারবার চাপ প্রয়োগ করছেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাদপুর সার্কেল মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শাহজাদপুর থানা পুলিশকে অবগত করেছি। থানা পুলিশের তথ্যমতে, সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।