গাজীপুরে কারখানায় আগুন: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

গাজীপুরের শ্রীপুরে বোতাম তৈরির কারখানার আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি মরদেহ আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। তাই মরদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমরা পুরো কারখানা সার্চ করছি। ধারণা করছি, প্রথম দিকে যে বিস্ফোরণ হয়েছে তখনই তাদের মৃত্যু হতে পারে।

এর আগে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি গ্রামের এম অ্যান্ড ইউ ট্রিমস্ লিমিটেড নামের কারখানায় অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে হঠাৎ করে কারখানার কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। কারখানার লোকজন আতংকিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে। কারখানার আশপাশের বসত বাড়ির লোকজন তাদের আসবাবপত্রসহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র বাইরে নিরাপদ নিয়ে আসতে থাকে। মুর্হুমুহু বিস্ফোরণে আশপাশে প্রকম্পিত হয়ে উঠে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, দুপুর ১টার ৪০মিনিটে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনে প্রথমে আগুন ম্যাসেজ দেওয়া হয়। ১টা ৫৬ মিনিটে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। যেহেতু কেমিক্যাল ড্রামে বিস্ফোরণের খবর ছিল তাই গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি, রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটিসহ পাঁচটি ইউনিট ডাকা হয়। সবমিলিয়ে মোট সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখানে প্রচুর কেমিক্যালের ড্রাম ছিল, আগুনের তাপে ড্রম গুলো ফুলে যাচ্ছিল। সেখান থেকে প্রচুর বিস্ফোরণের হচ্ছিল। আমরা আসার আগে দুই থেকে ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাই।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ডাম্পিংয়ের পর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তল্লাশির পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।