৩১ জানুয়ারী, ২০২৫
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় ধবলসুতি এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) বসিয়েছে বিএসএফ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পাটগ্রাম ধবলসুতি ঘাটিয়ার ভিটা সীমন্ত এলাকার প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ৪ নম্বর উপ-পিলারের জিরো লাইনের কাছে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) স্থাপন এবং সার্চলাইট লাগানো কাজ করে বিএসএফ।
জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে চাষাবাদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক পিলার ও যন্ত্র স্থাপন দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বর্ডারগার্ড ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোহার বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) দেখতে পায়। পরে কোনওকিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে বিএসএফ কর্তৃক শূন্যরেখার মধ্যে এসব স্থাপনের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানায়, ভারত-বাংলাদেশ ভিটা সীমান্তের শূন্যরেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে বিএসএফের-৯৮ ব্যাটালিয়নের ফুলকাডাবরী ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতের নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) স্থাপন করে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতীয় বিএসএফ গায়ের জোরে সীমান্তে জিরো লাইনে বৈদ্যুতিখুটি দিয়ে সার্চলাইট স্থাপন করেছে। পাশাপাশি রাতের বেলা তারা জিরো লাইলে এসে পাহারা জোরদার করছে। এতে আমরা গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ধবলসুতী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাফিজুর রহমান বলেন, ভারতীয় বিএসএফরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে একটি বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপন করে। তাদের বাধা দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে স্থাপন করে চলে যায়। পরে আমরা তাদেরকে ডাক দিলে তারা ডাক শোনেন না। এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান করা হলে সাড়া দেয়নি বিএসএফ।
এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি তিস্তা-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুমেন মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।