নারীর লাশ উদ্ধার

৩১ জানুয়ারী, ২০২৫

ফোনে বিয়ে, প্রবাসী স্বামীর সাথে অভিমান করে বিয়ের ৫৯ দিনের মাথায় বাবার বাড়িতে লাশ হলেন মারিয়া। ভাঙ্গায় মারিয়া আক্তার মুন (১৮) এর লাশ উদ্ধার করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। দুপুর ১টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়। 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের পীরেরচর গ্রামে। মারিয়া আক্তার মুন পীরেরচর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাহাবুল মাতুব্বরের মেয়ে ও একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শেখ ইমরান হোসেন ওরফে ইমন (২২) এর স্ত্রী। মারিয়ার যখন ৫ বছর বয়স তখন তার মা ও বাবার বিচ্ছেদ হয়। মারিয়া বাবার কাছেই থাকতো। 

এলাকাবাসী ও দুই পরিবার সূত্রে জানা যায়, মারিয়া আক্তার মুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রতিবেশি ইমরান হোসেন ওরফে ইমনের। প্রেম গড়ায় পরিনয়ের দিকে। গত ১৩ ডিসেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মারিয়া ও ইমরানের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মারিয়া ছিলেন আবেগপ্রবণ। ভাত খাওয়ার সময়ও স্বামীকে ভিডিও কলে রেখে ভাত খেতো। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মারিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী ইমরানকে ভাত খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তখন মালয়েশিয়ায় ভোর ৫টা। ঐ সময় ইমরান তাকে জানায়, ‘এখন হোটেল বন্ধ। ভাত খাওয়ার কোন উপায় নেই।’ এরপর মারিয়া তার দাবীর প্রতি অনড় থাকে। ইমরানকে ভাত খাওয়ার জন্য চাপাচাপি করতে থাকে। ইমরান কোন অবস্থায় ঐ সময় ভাত খাওয়া সম্ভব না বলে জানায়। এক পর্যায়ে মারিয়া ফোন বন্ধ করে দেয়। ইমরান মারিয়াকে ফোনে না পেয়ে বাড়িতে থাকা মারিয়ার দাদা আলমগীর মাতুব্বর (৭০) কে ফোন দেয়। আলমগীর মাতুব্বর ঘুমানো থাকায় ফোন রিসিভ করেননি। এরপর ইমরান তার নিজের বাবা ও মাকে ফোন দিয়ে জানায়, ‘ মারিয়াকে ফোনে পাচ্ছি না। তোমরা মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখো।’ ছেলের ফোন পেয়ে ইমরানের বাবা ও মা মারিয়াদের বাড়িতে আসেন। এরপর মারিয়া ও তার দাদাকে ডাকতে থাকেন। মারিয়ার দাদা উঠে ঘর খুলে দেয়। এরপর এরা তিনজন মারিয়ার রুমে গিয়ে দেখেন মারিয়া ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে। এরপর এরা মারিয়াকে ফ্যান থেকে নামান। ততক্ষণে মারিয়া আর বেঁচে নেই।  

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, মারিয়া আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।