২৫ মার্চ, ২০২৫
পবিত্র রমজানের শেষ দশক চলছে। এই দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই ১০ দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর বান্দাদের প্রচুর পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন। তাদের নরক থেকে নিষ্কৃতি প্রদান করবেন। তবে কিছু আমল জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সহায়ক হতে পারে। মহান আল্লাহর মুক্তি দানকে ত্বরান্বিত করতে পারে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ-নিষেধ মেনে চললে এবং তাদের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন না করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং জান্নাত লাভ করা যাবে।
এ ব্যাপারে কুরআনে এসেছে, ‘যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের আদেশমতো চলে, তিনি তাকে জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতঃস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হলো বিরাট সাফল্য। পক্ষান্তরে যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা নিসা : ১৩-১৪)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার আরেকটি উপায় হলো রমজান মাসের রোজা রাখা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য এক দিনের রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে এই দিনের বদলে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন’ (মুসলিম : ২৬০১)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) আরও বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিনে ও রাতে অসংখ্য লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন’ (মুসনাদে আহমদ)।
অন্য একটি হাদিসেও রোজাকে জাহান্নাম থেকে প্রতিরক্ষার ঢাল বলে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রোজা ঢালস্বরূপ’ (বুখারি : ১৯০৪)। রোজা পালন করার কারণে মহান আল্লাহ কেবল জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন তা নয়, বরং রোজাদারদের জান্নাতেও প্রবিষ্ট করাবেন। এমনকি রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি স্বতন্ত্র ফটক রয়েছে। এই ফটক দিয়ে কেবল তারাই সাড়ম্বরে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
হজরত সাহল (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি ফটক রয়েছে, কেয়ামতের দিন এই ফটক দিয়ে কেবল রোজাদারগণই প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? তখন রোজাদারগণ দাঁড়াবেন এবং জান্নাতে গিয়ে প্রবেশ করবেন। তাদের ছাড়া আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তাদের প্রবেশ করা শেষ হবে তখন ফটকটি বন্ধ করে দেওয়া হবে; ফলে আর কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না।’ (বুখারি : ১৮৯৬)।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের অন্য আরেকটি উপায় হলো মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা জীবন চলার পথে আমাদের অনেক গুনাহ হয়। প্রচুর অন্যায়, অপরাধ ও পাপ হয়ে যায়।
এ জন্য এসব অপরাধ থেকে ক্ষমাশীল আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা না করলে আমাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যাবে। তাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করলে জান্নাত বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও।’ আবার কোনো ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভের প্রার্থনা করলে জাহান্নাম বলে, ‘হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দাও’ (ইবনে মাজা : ৪৩৪০)। রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য হাদিস শরিফে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি লাইলাতুল কদর জানতে পারি তা হলে সে রাতে কী বলব? তিনি বললেন, তুমি বলো, হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি মাফ করতেই পছন্দ করো, অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও।’ (ইবনে মাজা : ৩৮৫০)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্য আরেকটি উপায় হলো ৪০ দিন একাধারে তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। যে ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত একাধারে তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধারে ৪০ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারলে তাকে দুটি মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হয়। জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং মুনাফিকদের তালিকা থেকে মুক্তি।’ (তিরমিজি : ২৪১)
আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করাও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই আমাদের কর্তব্য হলো নীরবে-নিভৃতে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও রোনাজারি করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। আল্লাহ সবাইকে তওফিক দান করুন।