ঋণ পরিশোধ আল্লাহর প্রিয় আমল

১২ এপ্রিল, ২০২৫

ঋণ, মানুষের জীবনে একটি বড় দুশ্চিন্তা ও চ্যালেঞ্জ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে পানাহ চাইতেন।

তিনি অনেক দুশ্চিন্তা, পেরেশানি, অক্ষমতা, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের কঠোরতা থেকে আশ্রয় চাইতেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত এক দোয়ায় তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের কঠোরতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০০২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এই দোয়া আমাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যেখানে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব এবং এর বোঝা কতটা বিপজ্জনক তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অবহেলা করে, তা শরিয়তবিরোধী কাজ এবং বড় গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি শহিদের জন্যও এই গুনাহের কোনো ক্ষমা নেই, যেহেতু আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ঋণ ছাড়া শহিদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬)

এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের উপকারে আসে, বিশেষত তার ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে, সে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘যারা মানুষের উপকার করে, তারা আল্লাহর কাছে প্রিয়। কোনো মুসলিমকে খুশি করা, তার বিপদ দূর করা বা তার ঋণ পরিশোধ করা—এগুলোও আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩০৮)

ঋণ পরিশোধে সহায়তার উত্তম পদ্ধতিগুলো

ঋণ পরিশোধের জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। এসব পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো বিনিময় ছাড়া ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ আদায় করা। তবে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধের জন্য সাহায্যকারী পদ্ধতিগুলোও কার্যকর হতে পারে, যেমন-

অর্থ ঋণ দেওয়া: নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে অর্থ দেওয়া।

বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতদের সহায়তা: অন্যদের কাছ থেকে টাকা তুলে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা।ধনী ব্যক্তির কাছে সুপারিশ: ঋণ পরিশোধে সহায়তার জন্য ধনী ব্যক্তির কাছে সুপারিশ করা।

ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা: ঋণের কিছু অংশ বা পুরো অর্থ ছাড় দেওয়ার জন্য ঋণদাতাকে সুপারিশ করা বা ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করা।

সমাজে ঋণগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো

আজকাল সমাজে অনেক মানুষ ঋণের বোঝা টানতে টানতে দিশেহারা। তারা যদি সাহায্য পায়, তবে তাদের দুঃখ-দুর্দশা কিছুটা লাঘব হতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণের বোঝা লাঘব করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহতায়ালা তার কাজ সহজ করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

অতএব, আমাদের উচিত ঋণগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করা। কোনো ব্যক্তি যদি ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পায়, তবে তার প্রতি আপনার সহায়তা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হবে। তাই আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতির পরিচয় দেওয়া। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এই মহৎ কাজ করতে তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক