৩০ এপ্রিল, ২০২৫
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন এবং ৩০ এপ্রিলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন সংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন আয়ানের সঞ্চালনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত বছর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসেছে, আমরা বারবার শুনে এসেছি তারা গণঅভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট। কিন্তু ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এই প্রশাসনের যে মূল কাজ, জুলাই-আগস্টের হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার, সেটি তারা করেনি। দীর্ঘ ৩২ বছর পরে যখন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি জাকসু নিয়ে আওয়াজ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্নভাবে গড়িমসি করে সেই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। যখনই তফসিল ঘোষণার সময় আসে, একটি গোষ্ঠী বিচার নিয়ে সরব হয়। আমরা মনে করছি, পরিকল্পিতভাবে বিচারকার্যকে জাকসুর বিপরীতে দাঁড় করানো হচ্ছে। আমরা চাই বিচার বিচারের মতো চলুক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি জাকসু নির্বাচনও দ্রুত সময়ের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল জাকসুর তফসিল ঘোষণা করবে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নায্য দাবি জাকসু নির্বাচন কার্যকর করবে। কিন্তু আমরা দেখছি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন এজেন্ডা চাপিয়ে দিয়ে জাকসু বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রশাসন যদি কোনো ভয় বা পেশিশক্তির চাপে জাকসু কার্যকর না করে, তাহলে গণ-অভ্যুত্থানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। আমাদের দাবি যদি মেনে না হয়, তাহলে যেভাবে আমরা গণঅভ্যুত্থানের গণআন্দোলনে নেমেছিলাম, সেভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই, ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিত করে জাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, ‘এই প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে যতবারই আমরা জাকসুর দাবি নিয়ে গিয়েছি, ততবারই কোনো না কোনোভাবে তারা জাকসু বিলম্বিত করার প্রচেষ্টা করেছে। জাকসু ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। আমরা দেখেছি, জাকসু না থাকার ফলে বিগত স্বৈরাচার আমলের পেটোয়া বাহিনী কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে, জাকসু ক্যাম্পাসের প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি। আমরা চাই সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক, শিক্ষার্থীরা জাকসু কেন্দ্রিক রাজনীতি চর্চা করুক এবং জাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের ভয়েস হয়ে উঠুক।’