১৬ আগস্ট, ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার (১৬ আগস্ট) আলাস্কায় ইউক্রেন সংকট নিয়ে এক ‘খুবই ফলপ্রসূ’ ও ‘পারস্পরিক সম্মানসূচক’ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ ১০ পয়েন্ট
১. শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আলাস্কার অ্যানকরেজ শহরের জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি এবং শিতল যুদ্ধকালে সোভিয়েত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হতো।
২. ট্রাম্প ও পুতিন ৩ ঘণ্টার আলোচনা শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন, তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার আগে কোনো চুক্তি নয়। তিনি বোঝাতে চাইছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। পুতিন এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও উপকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
৩. ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যাঁরা পরে দুপুরের খাবারের সময় আরও বড় পরিসরের বৈঠকে অংশ নেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট এ কথা জানান।
৪. পুতিনের সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ।
৫. ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি এবং অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। মাত্র কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনো মতানৈক্য আছে।’
৬. পুতিন সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের চেয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং আলোচনাকে ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ও পারস্পরিক সম্মানপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন।
৭. আলাস্কায় যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, তিনি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে চুক্তি করতে যাচ্ছেন না, বরং পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দরকষাকষি করতে আসিনি। তবে এটা ভালোভাবেই শেষ হবে বলে মনে করি। আর যদি না হয়, আমি দ্রুতই বাড়ি ফিরে যাব।
৮. অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত রাশিয়াকে তার ‘আক্রমণ’ বন্ধ করতে রাজি করানো। তিনি এক সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে লেখেন, ‘এখন সময় যুদ্ধ শেষ করার। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ রাশিয়ার নেওয়া উচিত। আমরা আমেরিকার ওপর ভরসা করছি।’
৯. ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। শীর্ষ মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাকস এনডিটিভিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোকে ব্যবহার করে। তারা দায়িত্বশীল আচরণ করে না। ভারতকে সাবধান হতে হবে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সঙ্গে ভুলভাবে শুরু করা বাণিজ্য যুদ্ধে ব্যবহার না হয়।’
১০. এই বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পথ এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার পরিণতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি