২০ আগস্ট, ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের নোটিশের উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ৩৩ শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে শোকজ নোটিশ দিয়েছি। বাকি ১১ জন কর্মকর্তার বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি উপাচার্য।
এর আগে রোববার একই বিষয়ে ১৯ শিক্ষককে শোকজ করা হয়। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষক, কমকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলেন- সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়, সহ-সভাপতি মুন্সী কামরুল হাসান অনিক, শিমুল খান, রতন রায়, মৃদুল রাব্বী, মাসুদ রানা (ইংরেজি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মজুমদার, মেহেদী হাসান হাফিজ, শাহীন আলম, ফজলে রাব্বী, তরিকুল ইসলাম, আইন সম্পাদক শাকিল আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াফত হোসেন রাকিব, শেখ সোহাগ, মেজবাহুল ইসলাম, রাফিদ হাসান, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক কুমার, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল আলিম, ক্রীড়া সম্পাদক বিজন রায়, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সদস্য পিয়াস মোস্তাকিন, উপ-কারিগরি সম্পাদক ফারহান লাবিব ধ্রুব, উপ-পাঠাগার সম্পাদক ওয়ায়েসুর রহমান প্রাঞ্জল, প্রচার সম্পাদক নাবিল আহমেদ ইমন, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক সাদিদ খান সাদি ও কর্মী বিপুল খান। এছাড়াও ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শাওন, অর্থনীতি বিভাগের তানভীর, সমাজকল্যাণ বিভাগের মারুফ ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের আদনান আলিম পাটোয়ারী, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমামুল মুত্তাকী শিমুল ও মনিরুল ইসলাম আসিফ।
প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলের ছাত্রদের অমানবিক নির্যাতন, পুলিশি হয়রানি, দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, ককটেল ও বোমার নাটক সাজিয়ে নির্দোষ শিক্ষার্থীদের ফাঁসানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের অন্যতম নেতৃত্ব প্রদানকারী ও পরিকল্পনাকারী এবং চক্রান্তকারীর ভূমিকা পালন করেন।
অভিযুক্ত ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখার আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ইব্রাহীম হোসেন সোনা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তা ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ হাসান মুকুট, একই দপ্তরের আব্দুস সালাম সেলিম, মাসুদুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উকীল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম (শিমুল), আইসিটি সেলের জেএম ইলিয়াস, অর্থ ও হিসাব বিভাগের তোফাজ্জেল হোসেন ও জনসংযোগ দপ্তরের আবু সিদ্দিক রোকন।
গত বছরের ৩ আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্র ও ৪ আগস্ট আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মিছিলে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন মারমুখী আচরণ এবং আন্দোলনবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিতকরণে জন্য গত ১৫ মার্চ ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন। সদস্য ছিলেন আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিম এবং সদস্যসচিব ছিলেন বিএনসিসি অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মজুমদার।