বর্ষায় চুলকানি বাড়ে কেন? নিয়ন্ত্রণের উপায় জানুন

২৮ আগস্ট, ২০২৫

সোরিয়াসিস— এক ধরনের ‘অটোইমিউন স্কিন ডিজিজ’। সহজ ভাষায় যাকে আমরা চুলকানি বলে চিনি। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, বর্ষাকালে এই ধরনের রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সোরিয়াসিস হলে ত্বক লাল হয়ে ফুলে যায়। সেসঙ্গে থাকে চুলকানি। অনেকসময় ত্বকের বিভিন্ন জায়গা থেকে খোসার মতো মৃত কোষ বা চামড়াও ওঠে। কিন্তু বর্ষাকালে কেন এই ধরনের সমস্যা বেড়ে যায়?

ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। তাপমাত্রা তুলনায় অনেকটাই কম থাকে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চারাইজার হ্রাস পেতে শুরু করে। 

চটচটে ঘর্মাক্ত ত্বক ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের আঁতুড়ঘর। তাই এমন আবহাওয়ায় সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বর্ষাকালে রোদ কম ওঠে। ফলে স্যাঁতসেতে আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুতগতিতে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। 

সোরিয়াসিস বা ত্বকে ছত্রাকঘটিক যেকোনো ধরনের সংক্রমণ রুখতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রয়োজন হয়। বর্ষাকালে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ খানিকটা হ্রাস পায়। চিকিৎসকরা বলছেন, ত্বকে সংক্রমণজনিত অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে এটিও একটি কারণ।

বর্ষায় সোরিয়াসিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে করণীয়?

১. ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের যেন অভাব না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। 

২. গোসলের ক্ষেত্রে খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ত্বক অতিরিক্ত খসখসে হয়ে পড়বে।

৩. এসময়ে হালকা সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এতে শরীরে ঘাম জমতে পারে না। 

ডায়েটে কেমন খাবার যোগ করলে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে?

১. মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই নিয়মিত মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ খেলে ত্বকে নিজস্ব ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কম হতে পারে।

২. ডায়েটে রাখতে পারেন ‘লিন ফ্যাট’। ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখতে গেলে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আর এই ঘাটতি পূরণ করতে লিন ফ্যাট কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৩. খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, সবজি। এগুলো রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে।

৪. খাবারে লবণ, চিনির মাত্রা কমাতে পারলেও ভালো হয়।

৫. বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ খাদ্যতালিকায় রাখুন। এসব খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে।