৩০ আগস্ট, ২০২৫
ঢাকা পলিটেকনিকের সাবেক শিক্ষার্থী সালমান তালিমের প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদ, প্রকৌশলী আন্দোলনের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত পুলিশ হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাত পৌনে ৮টায় বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মশাল মিছিল বের করেন তারা।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে মশাল মিছিলটি বুয়েটের ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে বকশিবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রাসেল মোড় হয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মশাল মিছিলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বুয়েটের শিক্ষার্থী আব্দুল নূর তুষার ৪ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারিকৃত কমিটির পুনর্গঠন, আমাদের পেশকৃত ৩ দফা দাবিগুলোর পক্ষে কমিটির আলোচনার একটি রোডম্যাপ এবং মিটিং প্রোগ্রেসের প্রিলিমিনারি রিপোর্ট ০৩ কার্য দিবসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
তিনি বলেন, কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদানের আগে ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে প্রমোশন বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে ১০ম গ্রেডে সার্কুলার ও নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
আব্দুল নূর তুষার বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২৭ আগস্ট পুলিশি হামলার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ ও শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা পলিটেকনিকের কিছু সন্ত্রাসী আমাদের বুটক্সের ছাত্র-ছাত্রী ভাইদেরকে জবাই করার হুমকি দিয়েছে। ঢাকা পলিটেকনিকের সন্ত্রাসীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এ সময় পুলিশের গ্রেনেড হামলায় আহত বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইয়েদ শাদীদ নাসিফের জন্য দোয়া চান আব্দুল নূর তুষার।
এর আগে তিন দফা দাবি আদায় করতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষাভবন, প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট অতিক্রম করে মৎস্য ভবনের সামনে আসেন তারা। এ সময় মৎস্য ভবন মোড়ে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানেই বসে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদ আলমের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণাও দেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা।