সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের মৃত্যুর গুজব

৩১ আগস্ট, ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গুজব। কয়েক দিন ধরে এক্সে ট্রেন্ড করেছে— ‘ট্রাম্প মারা গেছেন’ (Trump Is Dead)। এতে অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছেন, সত্যিই কি ট্রাম্প মারা গেছেন? আসল ঘটনা হলো—সবই গুজব।

এই ভাইরাল ট্রেন্ডের সূত্রপাত দুটি মন্তব্য থেকে। প্রথমত, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার; দ্বিতীয়ত, জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘দ্য সিম্পসন্স’–এর নির্মাতা ম্যাট গ্রোয়েনিং–এর বক্তব্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও তাঁর ওপর হওয়া ব্যর্থ গুপ্তহত্যার চেষ্টা।

গত ২৭ আগস্ট ইউএসএ টুডে–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোনো ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ (Terrible Tragedy) ঘটলে তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত কি না। উত্তরে ভান্স বলেন, “হ্যাঁ, ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হতেই পারে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, প্রেসিডেন্ট ভালো আছেন এবং তিনি তাঁর মেয়াদ শেষ করবেন।” ভান্সের এই মন্তব্য অনেকের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মৃত্যু প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মনে হয়। এরপরই এক্সে ভাইরাল হয় ‘Trump Is Dead’ হ্যাশট্যাগ।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ছিল। গত জুলাই মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, তিনি ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি রোগে ভুগছেন, যার কারণে তাঁর পা ফুলে যায়। তাঁর পা ফোলা ছবিগুলো যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর ওপর দু’বার হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল—যা গুজবকে আরও উসকে দেয়।

গুজব ছড়ানোর আরেকটি কারণ হলো ‘দ্য সিম্পসন্স’-এর নির্মাতা ম্যাট গ্রোয়েনিং–এর বক্তব্য। সান ডিয়েগো কমিক-কনে তিনি বলেন, “এই শো চলবে যত দিন না কেউ মারা যায়।” এরপর রহস্যজনক ভঙ্গিতে তিনি যোগ করেন, “যখন জানবেন কে মারা যাবে, তখন রাস্তায় নাচ হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ভান্স নাচ নিষিদ্ধ করবেন।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত করেন।

তবে ট্রাম্পকে নিয়ে এ ধরনের গুজব এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র–এর এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল—তাঁর বাবা মারা গেছেন। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ট্রুথ সোশালে এসে জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।