১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
আফগানিস্তানে তালেবানের হাতে আটক ব্রিটিশ দম্পতি ব্রিটিশ দম্পতি পিটার ও বারবি রেইনল্ডসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তাদের সঙ্গে আটক থাকা চীনা-মার্কিন নারী ফে হল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ওরা আক্ষরিক অর্থেই মারা যাচ্ছে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।’
গত ১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে ফেরার সময় ৮০ বছর বয়সী পিটার রেনল্ডস ও তার স্ত্রী ৭৬ বছর বয়সী বারবি রেনল্ডসকে আটক করে তালেবান প্রশাসন। একই সময়ে আটক হন ফে হলও।
তবে দুই মাস পর হল মুক্তি পেলেও পিটার ও বারবি এখনও কারাগারে।
ফে হল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভেঙে পড়েন। দম্পতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি। আমি জানি, খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে।
কখনো হাল ছেড়ো না।’
পিটার ও বারবি ১৯৭০ সালে কাবুলে বিয়ে করেন। প্রায় ১৮ বছর তারা আফগানিস্তানে বসবাস করেছেন। দম্পতির আফগান নাগরিকত্ব ছিল এবং ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পরেও তাদের দাতব্য সংস্থা অনুমোদিত ছিল।
ফে হল জানান, তারা একটি ব্যক্তিগত বিমানে কাবুল থেকে বামিয়ানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এক চেকপোস্টে আটক করা হয়। এরপর দিনভর তাদের বিভিন্ন থানায় ও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি কারাগারের ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, ‘আমাদের ছোট ছোট সেলে থাকতে হয়েছে। এমনকি খুনি অপরাধীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল।
চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া, প্রহরীরা হাতে ছিল মেশিনগান।’
বারবি রেনল্ডসের ওজন দ্রুত কমে গেছে এবং দাঁড়াতে বা হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান হল। পিটারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হার্ট সার্জারি ও ক্যানসার চিকিৎসার পর নিয়মিত ওষুধ নেওয়া তার জন্য জরুরি হলেও হলের দাবি কারাগারে থেকে তা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না।
ফে হল বলেন, ‘এই বৃদ্ধ মানুষগুলো ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। প্রতিদিন মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তারা।’
আগে থেকেই তাদের ছেলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, পিটার ও বারবি কারাগারে মারা যেতে পারেন। জাতিসংঘ জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, ‘যথাযথ চিকিৎসা না পেলে তারা এ ধরনের অমানবিক পরিবেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।’
হল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারকে একযোগে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর (এফসিডিও) জানিয়েছে, তারা দম্পতির পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর কাবুলে যুক্তরাজ্যের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সহায়তা পাঠাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘তালেবানের বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে আটক রাখার ইতিহাস রয়েছে। এই জিম্মি কূটনীতি বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’
তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, দম্পতির মানবাধিকার রক্ষা করা হচ্ছে এবং তারা চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মুক্তি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।