১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
অতিরিক্ত খনিজ বা লবণ গ্রহণ, পানি কম খাওয়া কিংবা পারিবারিক ইতিহাসজনিত কারণে অনেকেরই কিডনিতে পাথর হয়। তবে এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে মুখের ভেতরেও। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও মুখের অভ্যন্তরে স্টোন বা পাথর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে ফ্লুইডের অভাব হয়। এতে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। আর এই অভ্যাসের কারণে মুখের ভেতর পাথর হতে পারে। যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্যালাইভা গ্ল্যান্ড স্টোন’ নামে পরিচিত।
এমনিতে স্যালাইভা স্টোন ক্ষতিকর নয়। তবে এমন সমস্যা হলে মুখের ভেতর যন্ত্রণা হয়, খাবার গিলতেও কষ্ট হয়।
স্যালাইভা স্টোন কী?
চিকিৎসকের মতে, মুখের ভেতর এমন অজস্র গ্রন্থি রয়েছে, যেখানে লালা উৎপন্ন হয়। সেই গ্রন্থিতে ক্যালশিয়ামের অবশিষ্টাংশ জমে পাথরে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে গ্রন্থির মুখ পাথরে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তাই সেখান থেকে লালারস সহজে বের হতে পারে না। দীর্ঘ দিন এমনটা হতে থাকলে স্যালাইভা গ্ল্যান্ড ফুলে যায়, যন্ত্রণা হয়। সংক্রমণ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এমনকী দেখা দিতে পারে দাঁতের সমস্যাও।
মুখে পাথর হওয়া থেকে মুক্তির উপায় কী?
গ্রন্থির ভেতর লালারস জমতে জমতে চোয়ালের তলায় থাকা সাবম্যান্ডিবুলার গ্রন্থির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে গ্রন্থিটি ফুলে যায়। ফলে শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে সমস্যা হয়। তবে গ্রন্থি থেকে পাথর বের করার জন্য আলাদা করে অস্ত্রোপচার করানোর প্রয়োজন হয় না।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধরনের স্টোন যেমন চুপিসারে আসে, তেমনই নিজে থেকেই চলে যায়। পানি কম খাওয়ার অভ্যাসের পাশাপাশি কারও যদি অটোইমিউন ডিজিজ থাকে, সেক্ষেত্রেও এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এই স্টোন সাংঘাতিক রূপ নিতেই পারে। তখন ‘সিয়ালেন্ডোস্কপি’ করে মুখের ভেতর লালাগ্রন্থিতে জমে থাকা স্টোন বের করতে হয়।
এমন সমস্যা এড়াতে রোজ পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেট রাখুন।