০৫ অক্টোবর, ২০২৫
যতই ডায়েটে থাকা হোক না কেন, মিষ্টি খাবার দেখলে লোভ সামলানো মুশকিল হয়ে যায়। কিন্তু একটু বেশি মিষ্টি খেলেই যেন বাতের ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। অনেকের মনে তাই প্রশ্ন জাগে, মিষ্টির সঙ্গে কি ব্যথার সংযোগ আছে?
পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত চিনি খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। স্থূলত্বের সমস্যাও দেখা দেয়। আর ওজন বাড়লে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অনেকসময় সে কারণেই কোমরে ব্যথা হয়।
আবার অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার বা পানীয় খেলে প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। সেই কারণেও জয়েন্টের ব্যথা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত চিনি আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাতের ব্যথাকেও ভয়ঙ্করভাবে বাড়িয়ে দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে হাড় ও জোড়ার ক্ষতি ত্বরান্বিত করে।
আর্থ্রাইটিস মূলত হাড় ও জোড়ায় প্রদাহজনিত রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয় ও চিনি-সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার এ প্রদাহকে আরও উস্কে দেয়। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (CDC) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের বেশি যেন সংযোজিত চিনি থেকে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। অর্থাৎ দৈনিক ২ হাজার ক্যালোরির ডায়েটে সর্বোচ্চ ২০০ ক্যালোরি (প্রায় ১২ চা চামচ) চিনি গ্রহণই নিরাপদ সীমা।
গবেষণায় কী বলছে?
গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত চিনি-সমৃদ্ধ কোমল পানীয় পান করলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA)-এর ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে নারীদের এই ঝুঁকি বেশি। RA রোগীরা জানিয়েছেন, মিষ্টি খাবার ও সফট ড্রিংক তাদের ব্যথা ও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে, ব্লুবেরি ও পালং শাকের মতো খাবার RA-এর উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস (OA) রোগীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। উচ্চ চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কেবল ওজন বাড়ায় না, হাঁটুর জোড়ার ক্ষয়ও বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে গাউট রোগীদের ক্ষেত্রে উচ্চ ফ্রুক্টোজ-সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় রক্তে ইউরিক এসিড বাড়িয়ে ব্যথার তীব্রতা বাড়ায়।
চিনি কি কেবল মিষ্টিতেই আছে?
আপনি যদি ভেবে থাকেন কেবল মিষ্টি খাওয়া বাদ দিয়েই চিনিমুক্ত আছেন তাহলে এটি ভুল ধারণা। পাস্তা সস, কেচাপ, সিরিয়াল, রুটি, দুধের বিকল্প পানীয়, দই এমনকি ক্যানের স্যুপের মতো খাবারেও লুকিয়ে থাকে সংযোজিত চিনি। তাই এসব খাবার লেবেল পড়ে কেনা জরুরি।
চিনির বদলে কী খাবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত চিনি বাদ দিয়ে পরিমিত পরিমাণে মধু, আগাভ বা খাঁটি ম্যাপল সিরাপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে যেকোনো পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।